বুদ্ধি কি ?
বুদ্ধি কি এনিয়ে নানা মুনিন্নানা মত প্রচলিত আছে। শরীরের কোন নির্ধিষ্ট সীমারেখায় বুদ্ধির অবস্থান নয় বলে বুদ্ধির সঠিক সংজ্ঞা নিয়ে আজও এত মতপার্থক্য। সাধারণত ফ্রন্টাল লোব এবং টেম্পোরাল লোব -মানুষের মস্তিস্কের এই দু’টি অংশই বুদ্ধিকে নিয়ন্ত্রণ করে ।
বিজ্ঞানী ওয়েশলারের মতে বুদ্ধি হলো মানুষের এমন এক মানসিক অবস্থা যেখানে সে পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে দক্ষভাবে মানিয়ে নিতে সক্ষম, বাস্তব চিন্তা করতে এবং পরিবেশ অনুযায়ী উপযুক্ত ব্যবহার করতে পারে। তবে একথা সব সময় মনে রাখা দরকার যে, বুদ্ধি কখনও বংশ পরম্পরায় প্রবাহিত হয় না। বুদ্ধির বিকাশ পুরোপুরি পরিবেশের ওপর নির্ভরশীল ।
“ যে জন নিজ রুহ পাবে পরিচয় প্রানের প্রান সে দেখিবে নিশ্চয় এবং নিজেকে জান এবং যে নিজেকে চিনেছে সে প্রভূকে চিনেছে।” এই হচ্ছে মৌলিক বুদ্ধি বা মানুষের মৌলিক মানবিকতা। মানুষ নিজেকে চেনার পর যখন পূর্ণ সত্তায় বিকশিত হবে তখন তার সৃজনশীলতা বৃদ্ধি পাবে। সৃজনশীলতার পথ হচ্ছে কথা কর্ম বস্তু ইত্যাদি ইত্যাদি আবিস্কারের পথ ।
আমাদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় সংরক্ষিত করার সম্পর্কে যে প্রবণতা আছে, সেই প্রবণতাকে নিয়ন্ত্রণ করে বুদ্ধি ও চেতনা। বুদ্ধি ও চেতনা শুধু চালাকির বিষয় নয় বরং এই বুদ্ধি ও চেতনা আমাদের জীবনকে সাফল্যমন্ডিত করতে অথবা ব্যর্থ করতে ব্যবহৃত হয় ।
বুদ্ধি হচ্ছে বোধের সমন্বয় এবং তা প্রকাশের তৎপরতা ও শৃঙ্খলা। বুদ্ধি ও চেতনা জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় চিন্তাধারাকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং বুদ্ধি ও চেতনার মাধ্যমে আমাদের সৃজনশীলতার জ্ঞান বাড়তে থাকে ।
১৯৯৩ সালে কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট মাইকেল সোভার্ন যখন পদত্যাগ করলেন, একজন সাংবাদিক তাকে জিজ্ঞাসা করলেনতিনি কি কোন কাজ অসম্পূর্ণ রেখে যাচ্ছেন ।
সোভার্ন জবাব দিলেন ‘হ্যাঁ’। “ আত্মসন্তুষ্টির মতো শোনালেও আমি বলব, কেবল একটি কাজ বাকি আছে।”
তিনি বলতে চেয়েছিলেন যে, নৈতিক মূল্যবোধের বিষয়টিতে শিক্ষাদানের অভাব আছে ।
সেই অভাবটা আসলে ছিল বুদ্ধির অভাব, মূল্যবোধের অভাব ।
যে বাচ্চারা স্নেহশীল ও শৃঙ্খলাপরায়ন পরিবেশে মানুষ হয় তারা বাবা-মায়ের প্রতি বেশি শ্রদ্ধাশীল হয় এবং আইন মান্যকারী নাগরিক হয় ।
এটাই তো প্রকৃত মৌলিক বুদ্ধির কাজ যা শান্তি আনয়ন করে। আর সৃজনশীল বুদ্ধি তা শুধু কৌশল সৃষ্টি করে ।
বেলুন উড়ে হিলিয়াম গ্যাসে। মানুষের জীবনেও এই কথা সত্য। আমাদের কি আছে সেটাই প্রধান। আমাদের যে জিনিসটি আমাদের ওপরে উঠতে সাহায্য করে তা হলো আমাদের বিদ্যা-বুদ্ধি, জ্ঞান-শিক্ষা-অভিজ্ঞতা সব মিলিয়ে আমাদের মানবতা, আমাদের আবেগের শক্তি । মানুষের আবেগে চির অদম্য শক্তি নিহিত থাকে যা তাকে প্রত্যক্ষণে একনিষ্ঠ প্রতিভার অধিকারী করে তোলে।

0 মন্তব্যসমূহ