মেদ কমানোর সহজ উপায়
শুধু বিঘে-দুই ছিল মোর ভুঁই, আর সবাই গেছে
ঋণে।
বাবু বলিলেন, বুঝেছ উপেন? এ জমি লইব কিনে।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কথা অনুযায়ী যদি সবাই স্বাস্থ্য সচেতন না হয় সবাই তবে অচিরে সকলে অসুস্থ রোগীতে পরিণত হতে পারেন।
তবে অচিরে এর সমাধান না করলে স্ট্রোক, হার্ট এ্যাটাক সহ মারাত্বর রোগ হতে পারে।
এর পরে প্রশ্ন আসে কি করে মেদ বা ভুড়ি কমাবো?
চিন্তার কিছু নাই, খুব অল্প সময়ের মধ্যে আপনি আপনার মেদ বা ভুড়ি কমিয়ে নিতে পারেন। মাত্র ১ মাসে ১০-১২ কেজি ওজন কমান তাও আবার শুয়ে বসে।
ওজন কমানোর জন্য সব থেকে বড় বিষয় হলো মনোবল। আপনার যদি মনের জোর অনেক বেশি থাকে তবে আপনার পক্ষেই সম্ভব ওজন কমানো। তবে ওজন কমানোর জন্য স্বল্প কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে।
১। লেবু: প্রতিদিন সকালে খালি পেটে ১/২ টি লেবুর রস করে তার সাথে কুসুম গরম পানি মিশিয়ে খেতে হবে।
২। কলা: ওজন কমানোর বড় একটি খাদ্য হলো কলা। কলাকে ফল না বলে খাদ্য বলার করন হলো একটি বড় আকারের কলায় রয়েছে ১২০ ক্যলরি। কলায় রেজিস্ট্যান্স ও পেকটিন ফাইবার থাকায় হজম হতে দেরি হয় তা্ই পেট ভরা থাকে অনেকক্ষণ। একটি কলায় রয়েছে ১০০ ক্যালরি ও ৪৫০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম যা আমাদের দৈনিক পটাশিয়ামের চাহিদা পূরণ করে। এছাড়া শরীরের সোডিয়াম অপসারণ করে রক্তনালি শিথিল করে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করে এবং ভিটামিন বি৬–এর খুব ভালো উৎস। ভিটামিন বি৬ শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা, স্নায়ুতন্ত্র ও মস্তিষ্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া কলাতে রয়েছে ভিটামিন সি, ম্যাগনেশিয়াম, কপার, ম্যাঙ্গানিজ, কার্বোহাইড্রেট, ফাইবার, প্রোটিন ও ফ্যাট।
৩। শর্করা খাদ্য: আপনার খাদ্য তালিকা থেকে যতটা সম্ভব শর্করা খাদ্য কমিয়ে খেলুন। এখন অনেকের মধ্যে একটা প্রশ্ন আসে তাহলে ভাত খেতে পারবো না? হ্যাঁ পারবেন! তবে পরিমানে কম এবং যতটা সম্ভব নরম ভাত খাওয়া উত্তম।
৪। তাজা শাক সবজি: প্রতিদিন খাদ্য তালিকায় যতটা সম্ভব তাজা শাক সবজি রাখুন।
৫। ভোজ্য তেল: সবথেকে গুরুস্বপূর্ণ বিষয় হলো ভোজ্য তেল। আপনি হয়তো যানেন না যে ধীরে ধীরে আপনার শরীরের খারাপ চর্বি বাসা বাধা শুরু করেছে। যার প্রথম এবং প্রধান কারন হলো তেল। যতটা সম্ভব কম তেলে খাবার রান্না করে খেতে হবে।
৬। জাংক ফুড: এমন কিছু কৃত্রিম খাদ্য যাতে পুষ্টিমান অত্যান্ত কম থাকে। কিন্তু ক্যালোরি, চিনি, লবণ ও চর্বির পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। এগুলো সুস্বাদু তাই এর প্রতি সবাই বেশি আকৃষ্ট হয়। যেমন—পিজ্জা, বার্গার, স্যান্ডউইচ, চিপস, কোমল পানীয়, শিঙ্গাড়া ইত্যাদি শিশু ও তরুণ প্রজন্মের কাছে বেশ জনপ্রিয়। এ সমস্ত খাবার আপনার খাদ্য তালিকা থেকে একদম বাদ দিন।
৭। চিনি: ওজন বৃদ্ধিতে প্রধান
ভূমিকা হলো এই খাদ্য বস্তুটির। যা অত্যান্ত মারাত্বক বলে বিবেচিত হয়। সরাসরি চিনি
আপনার ওজন বৃদ্ধি সহ নানাবিধ জটিল রোগাক্রান্ত করতে প্রধান সহায়ক ভূমিকা পালন করে
থাকে।
৮। কোমল পানীয়: খুব জনপ্রিয় একটি পানীয়
হলো বিভিন্ন ধরনের কোমল পানীয়। যা খুবই মারাত্বক। একটি গবেষনায় দেখে গেছে একটি
২৫০ মিলি সাদা কোমল পানীয়তে ৩/৪ চা চামচ ও কালো পানীয়তে ৬/৭ চা চামচ চিনি থাকে।

0 মন্তব্যসমূহ