হার্ট ভালো রাখার উপায়:
কথায় বলে, "স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল" অর্থাৎ শরীরর ভালো তো সব কিছুই ভালো। আর ভালো থাকার বিষয়ে শরীরের কোন নিদিষ্ট অঙ্গ প্রত্যঙ্গের কথা আসে তবে প্রথমেই আসে হার্ট বা হৃদয়। শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হিসাবে বিবেচিত হয় এ অঙ্গটি। যদি সহজ ভাষায় বলি তবে হার্ট হলো পানি তোলা পাম্পের কাজ করে। অর্থাৎ রক্তকে পাম্প করে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে প্রেরণ করার কাজটি করে থাকে। ইদানিং কালে দেখা যায় অধিকাংশ মানুষের মধ্যে হার্টের অসুখ অনেক বেশি। এর প্রধান করন হলো আমাদের খাদ্যাভ্যাস ও অনিয়ন্ত্রিত জীবন যাপন। নিচে কিছু বিশেষ কারন তুলে ধরলাম।
১। অস্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিহিন খাদ্য গ্রহণ এর অন্যতম প্রধান কারন। অনেকে এ খাদ্য বলতে ভাবে বাসি পাচা নষ্ট খাবার, না তা নয়। এগুলো বলতে সাধারণ বোঝায়, জাংক ফুড: চানাচুর, বিস্কুট, ফুচকা, ঝালমুড়ি ইত্যাদি ও অতিরিক্ত তেল মসলা যুক্ত খাবার।
২। ভোজ্য তেল স্বাস্থ্যার জন্য অন্যতম ক্ষতিকর একটি বস্তু। আমাদের শরীরে সবথেকে বেশি কোলেস্টেরল হয় ভোজ্য তেল থেকে। আমরা রাস্তার পাশে যে সস্তা খাবার খাই তার তেল অত্যান্ত নিম্ন মানের যা শরীরকে মারাত্বক ভাবে ক্ষতির দিকে ঠেলে দেয়। তাছাড়া এ সমস্ত খাদ্যে কোন পুষ্টিগুন থাকে না, শুধু শরীর এ ফ্যাট বৃদ্ধি করে।
৩। অতিরিক্ত রাত জাগা এবং শারীরিক পরিশ্রশ না করা। বর্তমানে দেখা যায় যে, এখন অনেকে রাত জেগে কাজ করে কিংবা অযথা মোবাইল ফোনে সময় কাটায়। যা শরীরের জন্য অত্যান্ত খারাপ। এক দিনের ঘুমের ব্যঘাত এর সভাবিকতা ফেরৎ আনতে প্রায় ৭ দিন সময় লাগে।
স্বল্প কিছু নিয়ম কানুন মেনে হার্টের ঝুকি থেকে নিজে বাঁচাতে পারেন।
১। খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করেঃ পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণের মাধ্যেমে আপনি আপনার শরীরকে ভালো রাখাতে পারেন। যার মধ্যে অন্যতম হলো ঝাল, লবন, তেল এই তিনটি উপাদান খাদ্য প্রস্তুতের সময় পরিমানে কম ব্যবহার করুন। এর মধ্যে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হলো ভোজ্য তেল, যা থেকে খুব দ্রুত বৃদ্ধি পায় আপনার শরীরের চর্বি। তাই কোলেস্টেরেল কমাতে ভোজ্যতেল হিসেবে বেছে নিন অলিভ অয়েল, সূর্যমুখির তেল, রাইস অয়েল সহ যে সমস্ত তেল কোলেস্টেটেরল ফ্রি।
২। শারীরিক পরিশ্রমঃ যারা শুয়ে বসে সময় পার করছেন, তাঁরা সামান্য একটু পরিশ্রম করে শরীরর সুস্থ রাখতে পারেন। অনেকে মনে করেন শারীরিক পরিশ্রম মানে মাটি কাটা বা খড়ি ফাড়া কিন্তু এ ধারনাটি একদম ভুল। শুধুমাত্র নিয়ম করে দু'বেলা হাঁটাহাটি করুন।
৩। সঠিক ঘুমঃ ঘুম শরীরের জন্য একটি অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা আপনাকে নতুন করে প্রাণ ফেরৎ দেয়। সঠিক ঘুম নিয়ে অনেকের একটি ভ্রান্ত ধারনা আছে ঘুম বলতে অনেকে মনে করেন পাকে পাকে ঘুম পাড়া কিন্তু না এটি সঠিক না । রাতে একটানা ৬ থেকে ৮ ঘন্টা ঘুম হলো প্রকৃত ঘুম, যদি আপনার এর ব্যাপ্তয় ঘটে তবে বুঝবেন আপটি ঝুকির মধ্যে আছেন। বর্তমানে অনলাইনের কল্যানে অনেকে রাতে জেগে দিনে ঘুমায়, যা আপনার শরীরের জন্য অত্যান্ত ক্ষতি। যতটা সম্ভব রাতে ঘুমান সেই সাথে দুপুরে একটু ভাত ঘুম নিন, এটি আপনার শরীরকে পূণরায় রিস্টার্ট করে।
৪। নেশাকে না বলুনঃ যারা ধুমপান সহ নানাবিধ নেশাতে আক্রান্ত তাদের হার্টের জন্য এটি খুব খারাপ। ধুমপানের ফলে আপানার শারীরের রক্তে নিকোটিন মিশে রক্ত নালীতে বাধার সৃষ্টি করে। যার ফফশ্রুতিতে স্ট্রোক, হার্ট এ্যাটাক সহ মারাত্বক রোগ হয়।

0 মন্তব্যসমূহ