ক্লিক করুন

জলবায়ু পরিবর্তন

বিপদ ধেয়ে আসছে - জলবায়ু পরিবর্তন 





 মানব প্রকৃতির মায়া বন্ধনে সবুজ বৃক্ষ প্রকৃতিকে স্বাগতম

 

সবুজ উদ্যান বৃক্ষ প্রকৃতি

যান্ত্রিক সভ্যতার অনুসরন, বৃক্ষ নিধন এবং জন্ম প্রবনতা কোন ভাবেই শান্তির প্রতিক হতে পারে না। মানুষের সমাজে সবার সাথে সবার ঐক্যতার সম্পর্ক, সামাজিকতা ও পালনীয় জ্ঞান মান্য করে চলাই হলো মৌলিক সভ্যতা বা মৌলিক সংস্কৃতি, যা শান্তিপূর্ণ জীবন যাপনের জন্য অপরিহার্য পদ্ধতি। মহান ঈশ্বর জ্ঞান বিজ্ঞানের উপদেশ শান্তির জন্য প্রেরন করেছেন এবং জাগতিক সৃষ্টি ভূবনকে বেধে দিয়েছেন পরস্পর সমাজিকতায়। তিনিই জ্ঞান বিজ্ঞানময় প্রভু, যা ইচ্ছা করেন তাই করেন তার অসাধ্য কিছুই নেই।

বিশুদ্ধ ও তাজা অক্সিজেন গ্রহণকারী মানুষ হয় সু-স্বাস্থ্যবান এবং তারা রোগ জীবানুতে আক্রান্ত কম হয়। সবুজ বৃক্ষ, মানুষের জীবনের জন্য মৌল পদার্থ অক্সিজেন দান করে। মানুষ তার শরীরের রক্তে অক্সিজেন ধারন করে থাকে, ঠিক অক্সিজেন মিশ্রিত পানির মত। সবুজ বৃক্ষ সূর্যের ভয়াবহ তাপ হতে আমাদের রক্ষা করে, বাতাস ঠান্ডা রাখে, ছায়া দান করে, মাটি ঠান্ডা রাখে এবং সম্পদ দান করে। এমন কি মাটির নিচে পানি ধরে রাখে সহায়তা করে ও পানির বর্জ্য শোষন করে পানিকে দূষণ মুক্ত রাখে। সবুজ বৃক্ষ বাতাসে ভেসে বেড়ানো বর্জ্য হতেও আমাদের জীবনকে নিরাপদ রাখে।

সবুজ মন, সবুজ বৃক্ষ ও বিশুদ্ধ অক্সিজেন মানব জীবনের জন্য শান্তির মহিমা। আমাদের জীবন রক্ষার প্রায় সমস্ত কিছুই আমরা সবুজ প্রকৃতি থেকে পেয়ে থাকি। ইচ্ছা ও অনিচ্ছায় তারাও আমাদের নিকট থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবহার পেয়ে থাকে। তাই সৃষ্টিতে আজব রহস্য নিহিত আছে।

প্রকৃতির বিরুদ্ধাচারন করে কখনোই নির্মল আরোগ্য বিধান সম্ভব নয় এবং নির্মল শান্তি লাভ করা যায় না। মানব সমাজ যদি তাদের আবেগ ও ভালবাসা দিয়ে সবুজ প্রকৃতির সাথে অন্তরঙ্গ ও পরিচিত হতে পারে এবং বিশুদ্ধ ও তাজা অক্সিজেন লাভের পথকে সুগম করতে পারে, তাহলে তাদের  মানবীয় গুণাগুণ বৃদ্ধি পাবে এবং তারা জীবনকে অনুভব করে ধন্য হবে। সবুজ বৃক্ষের পরিমান বাড়াতে পারলে প্রয়োজনীয় বিশুদ্ধ অক্সিজেন বেড়ে যাবে। তখন আমরা এবং নতুন প্রজন্ম রোগ শোক, সূর্যের আজাব ও প্রাকৃতিক বিপর্যয় হতে স্বাভাবিক থাকতে পারব। আমাদের চারপাশের পরিবেশে যেখানে সবুজ গাছের সংখ্যা কম এবং যেখানে সূর্যের তাপ ছড়িয়ে যাচ্ছে, সেখানেই সবুজ বৃক্ষ রোপন করে যতœ নিতে পারি। সবুজ বৃক্ষ ও তাজা অক্সিজেন মানব জীবনের জন্য মহাঔষধ। আফ্রিকার আমাজান বন হতে পৃথিবীর মানুষের জন্য প্রচুর পরিমান অক্সিজেন সরবরাহ হয়।            

বাংলাদেশের মত গরীব ও দূর্বল সংস্কৃতির দেশে মাদক দ্রব্যের প্রতি নেশা প্রতিরোধে আত্মচেতনা সৃষ্টির বিকল্প নেই। মানুষের আত্মচেতনা সৃষ্টির প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। সমাজ, দেশ ও জাতির আত্মমর্যাদা ধ্বংসের ক্ষতিকর প্রভাব ও মাদক নেশার ভয়বাহতা রোধে সকলের মাঝে আত্মচেতনা সৃষ্টি করা এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা।

 




 দৃষ্টি আকর্ষন: সমাজ বিজ্ঞানের সংঙ্গা মতে সামাজিক সংঙ্গা হলো, এক এর অধিক ব্যাক্তি হচ্ছে সমাজ। সমাজ অর্থ পরস্পর সহযোগীতা। সংগঠনই শক্তি, সংগঠনই বল, সংগঠনকে সামনে নিয়ে চল এগিয়ে চল। এই প্রেক্ষিতে যে কোন  সৃজনশীল কাজ এবং যে কোন ন্যায় প্রতিরোধ করা উচিত সামাজিক ভাবে বা সাংগঠনিক ভাবে। এই দায়িত্বে বর্তমান প্রজন্মকে অবশ্যই আত্মপ্রত্যয়ী হতে হবে। নতুবা, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম কোন ভাবেই সৃজনশীল ও শান্তিপূর্ণ হতে পারবে না এবং আমাদের ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবে না।

কবি শুকান্তের ন্যায়, আমরাও যেন আত্ব প্রত্যয় প্রকাশ করতে পারি -

এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি,

এ আমার দৃঢ় অঙ্গিকার।

অবশেষে সরকাজ সেরে

নিজের ভালবাসা দিয়ে

নতুন শিশুকে করে যাব আর্শিবাদ,

                                                       তার পর হবো ইতিহাস।

বিঃদ্রঃ মাদকদ্রব্য বিষয়ক আলোচনা ও সবুজ উদ্যান বৃক্ষ প্রকৃতির আলোচনা দুটি বিষয়েই আত্মচেতনা সৃষ্টির প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।

 

 

 

 

 

মানব প্রকৃতির আলোচনা:  ভালবাসা , বিশ্বাস , সততা , শিক্ষা , মূল্যবোধ , মনোযোগ , সহনশীলতা , দায়িত্ববোধ , কর্মবোধ , কর্তব্যবোধ , অনুভূতিবোধ , আত্মমর্যাদাবোধ ইত্যাদির সমৃদ্ধিতে গঠিত হয় মানব প্রকৃতি ।

 

একটি মুক্ত দেখতে খুব সুন্দর। কিন্তু একাধিক মুক্তকে সুঁতো দিয়ে বাঁধলে তা হয় একটি মালা। তেমনি মানুষের একটি চিরন্তন গুণ অত্যন্ত মহৎ। কিন্তু একাধিক মহৎ গুণের সমন্বয়ে গঠিত হয় ভালবাসা ।

 

উপগ্রহ চন্দ্র যেমন তার সফলতার উজ্জ্বল আলো নিজের গুণে নিঃস্বার্থ ভাবে পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তেমনি শ্রেষ্ঠ মানবজাতি তার প্রকৃতির সেবা পৃথিবীর অন্যান্য সকল প্রানী বৈচিত্রকে প্রদান করতে প্রতিশ্রতিবদ্ধ। আমরা আমাদের ব্যক্তি জীবনে, সমাজ জীবনে এবং রাষ্ট্রীয় জীবনে সেবা দানে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ।

 

মানব প্রকৃতির মর্ম কথা:  ভালবাসার মর্ম কথা হলো মানব প্রকৃতির সুন্দর বাগান বা সুন্দর মন। সততার মর্ম কথা হলো নিজের সত্যতাকে জীবনে প্রতিষ্ঠিত রাখা। ধৈর্যের মর্মকথা হচ্ছে কোন কিছু পাওয়ার আশা করা এবং নিজ কর্মপ্রচেষ্টাকে ধরে রাখা। শিক্ষার মর্ম কথা হচ্ছে কিছু শেখা যা সৃষ্টিগত ব্যাপক। মূল্যবোধের মর্ম কথা হলো মূল্যায়নের চেতনা। মনোযোগের মর্ম কথা হলো আতসী কাঁচের যোগে কাগজকে পুড়িয়ে দেওয়া যা আবেগী অনুভূতি।

 

সহনশীলতার মর্ম কথা হলো সহ্য করার শক্তি ও ধৈর্য্য ধারনের শক্তি। দায়িত্ববোধের মর্ম কথা হলো অর্পিত দায়িত্ব সুসম্পাদন করার প্রত্যয় । কর্মবোধের মর্ম কথা হলো কর্মই মানুষের জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করে এই বিশ্বাস । কর্তব্যবোধের মর্ম কথা হলো নিজের কর্তব্য-কর্মের প্রতি সতর্ক-সচেতন থাকা ।

 

অনুভূতিবোধের মর্ম কথা হলো নিজের কর্মকে এবং নিজের জ্ঞানকে অনুভব করতে পারলে অনুভূতির স্বাদ পাওয়া যায় ।

আত্মমর্যাদাবোধের মর্ম কথা হলো সুন্দর প্রকৃতির মন যা মর্যাদাপূর্ণ ব্যবহার করে । নিজ রুহ্ যে জন পাবে পরিচয়, প্রানের প্রান সে দেখিবে নিশ্চয়। যে নিজেকে মানুষ হিসাবে চিনেছে, প্রভূর মহান দানকে সে জেনেছে, তাই অমূল্য কথা এসেছে দার্শনিক সক্রেটিসের শিক্ষণের সামগ্রিক চিন্তা -দর্শন  থেকে নিজেকে জানো । যে নিজেই নিজের কর্ম ও বিশ্বাসের ওপর শ্রদ্ধা রাখে সেই আত্মমর্যাদা বোধের অধিকারী ।

 

মানব জীবনের প্রকৃতি:





 

মানব প্রকৃতি যে কত সুন্দর কত মোহময় কত সৃজনশীল তা শুধু তারাই জানে যারা এই প্রকৃতির স্বপ্ন-সফলতা রচনা করেছে এবং তার অনুভূতি বোধ করেছে। দার্শনিক সক্রেটিস তাই এই প্রকৃতি রচনার জন্য মানুষকে উদাত্ত আহব্বান জানিয়ে গিয়েছেন, “ নিজেকে জানো

 

মানুষের নিজের মধ্যে যে চিরন্তন গুণ আছে, যে আলো আছে, যে প্রতিভা আছে, মানুষ যদি অন্তর্দর্শন ও শিক্ষার মাধ্যমে সেই আলোতে আলোকিত হতে পারে তবে সেটাই হবে তার শ্রেষ্ঠ উপহার - আত্মসুন্দরের অনুভব, তার স্বপ্ন সফলতার নিদর্শন ।

ইতি কথা পৃথিবীতে মানবজাতিই শ্রেষ্ঠ এবং মানবজাতিই সর্বত্তম। তবে শর্ত হচ্ছে যে , এই মানবজাতিকে প্রকৃতিগত সত্য সুন্দর বুদ্ধি-বিবেচনার অধিকারী চেতনাগত সচেতন মানুষ হতে হবে। যদি এমনটা না হয় তাহলে যদি বিপদ আসে কী হবে কে বাঁচাবে তবু বাঁচতেই হবে। একজন ভদ্রলোক একটি তরুনকে পানি থেকে বাঁচানোর পরে তার প্রশ্নের জবাবে   বলেছিলেন, “ বাবা তুমি তোমার জীবনকে এমনভাবে গড়ে তুলবে যেন মনে হয় তোমার জীবন বাঁচানোর যোগ্য ছিল । অতএব অন্য জনও বাঁচাবে, নিজেকেও বাঁচতে হবে ।

 

হার্ভার্ড বিশ্বাবদ্যালয়ের  উইলিয়ম জেমস্ ( ডরষষরধস ঔধসবং ) বলেন, “ আমাদের প্রজন্মের সর্বশ্রেষ্ঠ আবিষ্কার হচ্ছে এই যে মানুষ তার মনোভাবের পরিবর্তন ঘটিয়ে তার জীবনযাত্রার পরিবর্তন ঘটাতে পারে

 

অভিজ্ঞতার নিরিখে আমরা জানি মানব সম্পদই সমস্ত রকমের উদ্যোগে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ সম্পদ। তাই মানুষ নিজের মহত্তম সম্পদ কিংবা বৃহত্তম দায় হয়ে উঠতে পারে ।

                                                                         

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ