আমরা কেন লেখা পড়া করছি ?
এই প্রশ্নের দার্শনিক উত্তর না দিয়ে আমরা যদি এর জাগতিক উত্তর দেই- তাহলে বলতে হয়, ব্যক্তি জীবনে উন্নতির আশায়। ব্যক্তি জীবনে উন্নতি করতে চাইনা, পৃথিবীতে এমন ব্যক্তি নেই। কিন্তু দুঃখের বিষয় আমাদের অধিকাংশ লোকই উন্নতির স্বপ্ন দেখে দিবা-স্বপ্নের মতো। অথচ তাদের নেই কোন আত্মবিশ্বাস যে তার স্বপ্নকে সার্থক করতে সক্ষম হবে ।
আমরা যদি কিছু করতে চাই বা হতে চাই তার জন্যে প্রথম যে গুণটির প্রয়োজন তা হলো আকাঙ্খা-ইচ্ছা-বাসনা বা লক্ষ্য নির্ধারণ। দ্বিতীয় গুণটি হলো আত্মবিশ্বাস। আকাঙ্খা যখন গভীর হয় এবং আত্মবিশ্বাস যখন সুদৃঢ় হয়, তখন যদি উপযুক্ত জ্ঞান অর্জন করে নিষ্ঠার সঙ্গে একাগ্রতা নিয়ে কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছতে কঠোর পরিশ্রম করা যায়- তাহলে তার জন্য সাফল্যের স্বর্ণ শিখরে আরোহণ করা হয়ে যায় ।
তুমি যদি তোমার আকাঙ্খাকে জোরদার করতে চাও তাহলে নিজেকে প্রশ্ন কর, কেন এই ইচ্ছাটি তোমার মনে বাসা বেঁধেছে। তুমি তোমার আকাঙ্খা বা লক্ষ্যের পিছনে যুক্তি দাঁড় করাও। তুমি কি হতে চাও- এটা নির্ধারণ তোমাকে করেই তোমার লেখা-পড়ার গতি নির্ণয় ও উপায় উপকরণ ব্যয় করতে হবে। যুক্তির ভিত্তিতে যদি তোমার লক্ষ্য স্থির করতে পার, তবে তোমার লক্ষ্য ও আকাঙ্খা তোমাকে দেবে অদম্য শক্তি ।
তোমার আকাঙ্খা গভীর,
আত্মবিশ্বাস সুদৃঢ়, তোমার কর্মক্ষেত্রে তুমি অভীজ্ঞ - এবার যদি সাফল্যের স্বর্ণ শিখরে আরোহণ করতে চাও তাহলে শুধু নিষ্ঠার সাথে কঠোর পরিশ্রম ও সাধনা। তোমার উদ্যোগ একবারে সফল না হলে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাও, লেগে থাক, অন্তত সাতবার চেষ্টা না করে ছাড়বে না। যদি তোমার আত্মবিশ্বাস থাকে এবং থাকে অদম্য ইচ্ছা তাহলে তা তোমাকে দেবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবার অসীম শক্তি। ফলে সাফল্য তোমার অবধারিত ।
তোমার লক্ষ্য বস্তু তোমার যোগ্যতার উর্ধ্বে বলে ভীত বা সংকুচিত হবে না। কেননা তোমার মাঝে যে অসীম শক্তি লুকিয়ে আছে তা হয়ত তোমার জানা নেই। তুমি সেই শক্তি আবিস্কার কর, কাজে ব্যবহার কর, ধৈর্য্য ধরে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাও এবং নিজেই অবাক হয়ে যাবে তোমার লুকানো শক্তির পরিচয় পেয়ে। এবার এই প্রস্তাবটি পরীক্ষা করে দেখ ।
তুমি একটি টেবিলে হাত রাখ এবং অনুভব কর, হয়ত বলবে টেবিলটি ঠান্ডা। এবার ঘষতে থাক - দেখবে টেবিলটি গরম হয়ে গেছে। এখন আপাত দৃষ্টিতে যা ছিল শীতল, তার মাঝেই লুকানো উত্তাপ এবং এটা যদি আরও জোরে ঘর্ষণ করা যায় তাহলে সেখান হতেই বের হবে প্রচন্ড উত্তাপ। অতএব ভীত বা অসহায় বোধ করবে না। তোমার মাঝে ঘুমিয়ে আছে অফুরন্ত সম্ভাবনা, শুধু নিজের ওপর বিশ্বাস রাখ এবং প্রচেষ্টায় লেগে থাক সাফল্য তোমাকে বিস্মিত করবে ।
আরেকটি কথা মনে রাখবে, প্রতিটি মানব শিশু প্রভূর দেওয়া প্রতিভা নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। সেই প্রতিভা ও চেতনা হচ্ছে মিথ্যাকে ব্যবহার না করে সত্য জ্ঞান প্রতিষ্ঠিত করা। সেই প্রতিভা লালন পালন ও পরিচর্যা করে কেউ সাফল্যের দিগন্তে উন্নীত হয় আবার কেউ তা অযত্নে ফেলে রেখে প্রতিভার অপমৃত্যু ঘটায় ।
একটা তীক্ষ্ণ ধারালো চাকু যদি তুমি কয়েকদিন অযত্নে মাটিতে ফেলে রাখ - তাহলে দেখবে তাতে মরিচা ধরে নষ্ট করে দিয়েছে এবং কোন কিছু কাটার অযোগ্য করে দিয়েছে। অথচ একখন্ড আস্ত লোহাও যদি ক্রমাগত ঘোষতে থাক তবে তা ক্রমেই ধারালো হতে থাকবে ।
সুতরাং তোমার যে প্রতিভা ও স্মৃতি শক্তি আছে তা স্বযত্নে কাজে লাগাও - প্রচেষ্টা চালাও দেখবে তোমার প্রতিভা বেড়ে যাবে, স্মৃতিভান্ডার সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে। তোমার স্মৃতি তীক্ষ্ণতর হয়ে উঠবে ।
আমরা এতক্ষণ সাফল্যের যে তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা দিলাম, তা মনোযোগ দিয়ে পাঠ কর। বারবার পাঠ করে অনুধাবন করার চেষ্টা কর। এই বক্তব্যের মধ্যে যে যুক্তি আছে, সত্যতা আছে এবং অফুরন্ত সম্ভাবনা আছে, ক্রমেই তা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতে পারবে। এবার একটি অভিজ্ঞতা ও পরীক্ষিত ফর্মূলা তোমাদের দেবার চেষ্টা করব ।
এই ফর্মূলা নিজের প্রয়োজনে বদলিয়ে জীবনের সর্বক্ষেত্রে শিক্ষা, কর্ম-পেশা, ব্যবসা বা রাজনীতি প্রয়োগ কর - তুমি জীবনের চরম শিখরে পৌঁছতে পারবে। সাফল্যের জন্য প্রাথমিক যে গুণগুলি প্রয়োজন তা হলো ।
(১) আকাঙ্খা বা লক্ষ্য নির্ধারণ ( অরস রহ খরভব ) (২) আত্মবিশ্বাস (৩) জ্ঞান অর্জন এবং (৪) নিষ্ঠার সঙ্গে কঠোর পরিশ্রম। সঠিক চেতনা নিয়ে পথচলাই সাফল্য, কঠোর পরিশ্রম তা সাময়িক ব্যাপার। তাউ সহনশীলতার শিক্ষা পাওয়া অপরিহার্য গুণবত্তা ।
তুমি আত্মবিশ্বাস, জ্ঞান ও স্মৃতিশক্তি নিয়ে পরীক্ষা দেবে। সেখানে নকল করে, অসৎ হয়ে বা প্রতারণা করে বেশি নম্বর পাবার প্রয়োজন হবে না। নকল করে হয়তবা সার্টিফিকেট পাওয়া যায়, পাশ করা যায় কিন্তু জ্ঞান অর্জন করা যায় না। তোমার মাঝে রয়েছে সীমাহীন সম্ভাবনা, অপরাধী হয়ে নিজেকে ছোট করবে না ।
মনে রাখবে এই পৃথিবীতে তুমি প্রভূর প্রতিনিধি এবং মিথ্যার ভিত্তিতে স্থায়ী কোন ভবিষ্যৎ গড়া যায় না বা সাফল্যের শিখরে উঠা যায় না। অতএব জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণ করে আত্মবিশ্বাসের সাথে উপযুক্ত জ্ঞান অর্জন করার জন্য নিষ্ঠা এবং আন্তরিকতার সাথে কঠোর পরিশ্রম করে যাও। সাথে সাথে করুণাময় মহান প্রভূর ওপর ভরসা করে তার সাহায্য কামনা কর ।
তুমি সাফল্যের স্বর্ণশিখরে আরোহণ করবেই ।
মানব দেহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো মস্তিস্ক। আর মস্তিস্কের মধ্যেই থাকে ঘিলু বা ব্রেইন। ওখানেই আমাদের ভাব, ভাষা, কর্মশক্তি, কর্মপ্রেরণা, মানবিক-অমানবিক সমস্ত রকমের কর্ম প্রবৃত্তির উৎস। এসবের ওপরই বুদ্ধির পরিমাপ নির্ণীত হয়ে থাকে ।
আসলে বুদ্ধি, প্রতিভা বা মস্তিস্কের জটিল ক্রিয়াকলাপ নিয়ে মানুষের বিভিন্ন ধারণা আছে। বিজ্ঞানীদের কাছে মস্তিস্কের নানা রহস্য আজও অজ্ঞাত। মানুষের মাথা বা মস্তিস্ক সযতনে সুরক্ষিত থাকে ।


0 মন্তব্যসমূহ