Abbreviation of Cricket
ক্রিকেট একটি জনপ্রিয় খেলা। বর্তমানে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ক্রিকেট খেলার কম-বেশি প্রসার ঘটেছে। জনপ্রিয় হলেও অনেকেই কিন্তু ক্রিকেটের আক্ষরিক অর্থ জানেন না ।
ক্রিকেট লেখকগণ বিশ্বাস করেন যে, ১৮৬৫ সালে এই ক্রিকেট খেলার প্রচলন হয়। অবশ্য কেউ কেউ বলেন, ১৬৫০ কিংবা ১৬৯০ সালে ক্রিকেট খেলার প্রচলন ছিল। সাত অক্ষরের সমষ্টি ক্রিকেট যা মানুষের সাতটি চিরন্তন গুনের ধারক ।
ইংরেজিতে Cricket লিখতে হলে প্রথমে আসে ইংরেজি বর্ণমালার তৃতীয় অক্ষর C. C- হলো Concentration - এর প্রথম অক্ষর। এর অর্থ হলো একাগ্রতা। ক্রিকেট খেলার জন্য একাগ্রতার যথেষ্ঠ প্রয়োজন আছে। ক্ষণিকের অমনোযোগীতা বা একাগ্রতার অভাবে বিপদ হতে পারে। যে কোন খেলোয়াড় ব্যাটস্ম্যান, বোলার কিংবা ফিল্ডার প্রত্যেকেরই এটার যথেষ্ট প্রয়োজন। বিশেষ করে ব্যাটস্ম্যানদের ক্ষেত্রে বেশি প্রয়োজন ।
পরের অক্ষর R- এসেছে Regularity অর্থাৎ নিয়মানুবর্তীতা থেকে। খেলার Regularity - না থাকলে শুধু ক্রিকেটই নয়, কোন খেলাতেই ভাল ফল পাওয়া যায় না। খেলোয়াড়দের নিয়মিত অনুশীলন তাকে খ্যাতির শীর্ষে উঠতে সাহায্য করে। আর ক্রিকেট খেলায় এর প্রয়োজনীয়তা কতবেশি তা সবারই জানা ।
I- নেয়া হয়েছে Intelligence - থেকে। বুদ্ধিমত্তাতে সব কিছুই করা যায়। ক্রিকেট খেলা হলো বুদ্ধির খেলা। এই বুদ্ধি যৌগিক বা সৃজনশীল বুদ্ধি। বিশেষ করে অধিনায়ক ও বোলারদের বুদ্ধির জোরে অনেক খ্যাতিমান ব্যাটস্ম্যানকে অকালে উইকেট খোয়াতে হয় ।
তারপরের অক্ষর C - হলো Courage – এর প্রথম অক্ষর। Courage - এর অর্থ হলো সাহস। দলের বিপদের সময় সাহসের সাথে রুখে দাঁড়ানোই ক্রিকেট খেলার সার্থকতা। ব্যাটসম্যানের সাহস না থাকলে ভয়ঙ্কর ফাস্ট বোলারদের ফাস্ট বল মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। ঠিক তেমনি একজন ভাল বোলার সাহসের অভাবে একজন ভাল ব্যাটস্ম্যানের বিরুদ্ধে ভাল বল করতে পারে না ।
Cricket – এর K - হলো Keenness - এর প্রথম অক্ষর। এর অর্থ বিচক্ষণতা। খেলার প্রতি মন-প্রান সপে না দিয়ে খেললে কখনও ভাল খেলা যায় না। ভাল ফিল্ডার হতে হলে কঠোরতম পরিশ্রমের প্রয়োজন
E, Cricket - এর ষষ্ঠ অক্ষর। E - অক্ষরটি এসেছে Energy - অর্থাৎ শক্তিমত্তা থেকে। ক্রিকেট খেলতে প্রচুর Energy দরকার। কারণ টেস্ট ম্যাচে কখনও কখনও ব্যাটস্ম্যান, বোলার কিংবা ফিল্ডারদের দলের প্রয়োজনে দু’দিন তিনদিন খেলতে হয় ।
Cricket - এর সর্বশেষ অক্ষর T । T - হলো Temperament - এর প্রথম অক্ষর। Temperament - এর আভিধানিক অর্থ হলো সহনশীলতা, বিভিন্ন পরিস্থিতিতে মাথা ঠান্ডা রেখে ক্রিকেট খেলতে হয়। মাথা গরম করলেই একাগ্রতা বিঘিœত হয়। সেজন্য পরিস্থিতি অনুযায়ী মাথা ঠান্ডা রেখে ক্রিকেট খেলতে হয় ।
তাহলে বোঝা যাচ্ছে Cricket - এর C - হলো Concentration থেকে, R - হলো Regularity থেকে, I - হলো Intelligence থেকে, C - হলো Courage থেকে, K - হলো Keenness থেকে, E - হলো Energy থেকে এবং T - হলো Temperament থেকে গৃহীত। একমাত্র ক্রিকেট খেলাতেই এই সাতটি গুণের পরিচয় দিতে হয় । আর এখানেই হলো ক্রিকেট খেলার সার্থকতা ।
ক্রিকেট শব্দের এই সংক্ষিপ্ত অর্থবোধে মানব গবেষণার পরিচয় দেওয়া হয়েছে। এখানে মানবতত্তে¡র সাতটি অসাধারণ গুণবত্তাকে অনুশীলনের মাধ্যমে প্রতিভাবান হওয়ার কথা বলা হয়েছে। তাউ এই সাতটি গুণবত্তা শুধু ক্রিকেট খেলার জন্যই প্রযোজ্য নয়, বরং জীবন যুদ্ধে এবং জীবনের বিভিন্ন বিষয়ে সফলতা অর্জনের জন্য এই সাতটি গুণ অপরিহার্য। যারা এই সাতটি গুণবত্তার অধিকারী তারা শুধু ক্রিকেট খেলাতেই বরং সকল ক্ষেত্রেই নিজ প্রতিভার পরিচয় দিতে পারবে। তারা হবে প্রেমী আত্মবিশ্বাসী এবং সব মিলিয়ে ভালবাসার মানুষ। এর চেয়ে বড় সফলতা আর কি হতে পারে ?


0 মন্তব্যসমূহ