শ্রী শ্রী
মহাপ্রভুর ভোজন আরতী
ভজ নিতাই গৌউর রাধের
শ্যাম জপ হরে কৃষ্ণ হরে রাম
কথা
তাই আজ এখানে সাধুগুরু বৈষ্ণব
ভক্তের আগমন হয়েছে, সাধুগুর বৈষ্ণব ভক্তের চরণে আমি শত কোটি প্রণাম জানাই। (প্রণাম করতে হবে)
সুরে
দাও দাও চরণ ধুলি
গো, ভক্তের
চরণধুলি অঙ্গে মাখি
দাও দাও চরণ ধুলি
গো।।
কথা
এ অধমের পক্ষে ভজন আরতি কৃর্ত্তনকরা
সম্ভব নয়, তােই ভক্তের কৃপা না হলে তো ভগবানের কৃপা হয় না। নিজগুণে কৃপা করবেন। তাই ভক্তের চরণে স্মরণ নিয়ে আমি প্রভুর
ভোজন বিলাসকিঞ্চিত বর্ণনা করার মনাভিলাস নিয়ে ভক্তের মাঝে উপনীত হয়েছি। সাধুগুরু বৈষ্ণব গণ যদি কৃপা করে অনুমতি
দেন তাহলে আমি প্রভুর ভোজন বিলাস আরাম্ভ করতে পারি।(অনুমতি প্রার্থনা)
সুরে
ভজ পতিত ঊদ্ধারণ
শ্রীগৌউর হরি।
শ্রীগৌউর হরি নবব্দীপও
বিহারী
দীনও দয়াময়, হীতও কারী হরে হরে।।
কথা
ভজ পতিত ঊদ্ধারণ
শ্রীগৌউর হরি।
শ্রীগৌউর হরি নবব্দীপও
বিহারী
দীনও দয়াময়, হীতও কারী হরে হরে।।
গীতকর্তা এক পাশে দাঁড়িয়ে বললেন
পতিত? পতিত
তারাই যারাকৃষ্ণ নাম করে না, ঊচ্চ শিক্ষিত হয়েও কোন ধর্মগ্রন্থ
অধ্যায়ন করেনা এবং অধ্যায়নরত ব্যাক্তিকে লক্ষ করে উপহাস করে তারাই পতিত। সে সকল পতিত কেউ প্রভু আমার মহা মন্ত্র
কৃষ্ণনাম দিয়ে ঊদ্ধার করবেন,
কাউকে বাকী রাখবেন না। আর দীন হীন কাঙ্গাল, কেমন কাঙ্গাল অর্থের কাঙ্গাল,
ধন জনের কাঙ্গাল না না না, অর্থের কাঙ্গাল,
ধন জনের কাঙ্গাল না। হরিনামের কাঙ্গাল, কৃষ্ণনামের কাঙ্গাল তাই
দীন হীনের প্রতি হিত সাধন করনে।
সুরে
দীনের প্রতি দয়া
কর হে, ওহে
পতিত পাবন গৌউর হরি দীনের প্রতি দয়া করো হে।।
কথা
হে দীরবন্ধু ভকোতর কাঙ্গাল তুমি
যেমন ভক্তের কাঙ্গাল আমিও তেমনি তোমার কাঙ্গাল। আমার এই আশা বঞ্চিত করনা ওহে আমার কাঙ্গালের
ঠাকুর।
মাতান
দীনও দয়াময় হীতকারী
হরে হরে
ভজ পতিত ঊদ্ধারণ
শ্রীগৌউর হরি।
কথা
হে দীনবন্ধু দয়াময়
গৌউর হরি কাঙ্গালের ঠাকুর
সত্যযুগে ছিলে সত্য নারায়ণ হরি, ত্রেতা যুগে প্রভু রামরুপে
হয়েছিল ধনুকধারী, দ্বাপরযুগে নন্দের ঘরে খেয়েছিলে কত খীরছানা
নবনী চুরি করি। আর এই কলিতে গৌরাঙ্গরুপে হয়েছ দন্ডকুমন্ডল ধারী। ত্রেতা যুগে প্রভু আমার অস্ত্র ধরেছিল
যুদ্ধও করেছিল, কত অসুর দানবে নিধন করেছিলেন। দ্বাপরেও প্রভু আমার অস্ত্র ধরেছে যুদ্ধ
করে ব্রজলীলা সমাপ্ত করে মথুরায় গিয়ে কংস ধ্বংস করে রাজা হয়েছিলেন। আর এই যুগে প্রভু আমার অস্ত্র ধরবেন না
যুদ্ধ করবেন না প্রাণেও কাউকে মারবেন না।কলির অন্নগত জীব জানে না ভজন সাধন, করতে পারবে না কোন যাগযজ্ঞ,
তাই ভক্তগণ পাশ থেকে প্রভুকে উদ্দেশ্য করে জিজ্ঞাসা করলেন কাতর আর্তনাদ
করে, প্রভু হে তুমি অস্ত্র না ধরে, প্রাণে
কাউকে না মেরে তেমন করে কলির জীবকে উদ্বার হবে। নিজগুনে কৃপা করে বল প্রভূ কলির জীবের
গতি কী হবে? তাই প্রভু আমার বলেছে কলির জীব ঊদ্বার হবে অতি সহজে। এই পাগলা নিতাই প্রতি জীবের ঘরে ঘরে গিয়ে
কর্ণদ্বারে মহামন্ত্র তারক ব্রম্মনাম দিয়ে দেহ চিত্ত শুদ্ধি করে ঊদ্ধার করবেন।যেমন রাম আদি অবতারে ক্রধে নান
অস্ত্র ধরে অসুর দানবে নিধন করে ঊদ্বার করেছে, এবার প্রভু অস্ত্র না ধরে প্রাণে কাউকে না মেরে
চিত্ত শুদ্ধি করবে সবার।
সুরে
রাম আদি অবতারে
ক্রোধে নানা অস্ত্র ধরে,
অসুরেরে করেছে নিধন
রে, অসুরেরে
করেছে নিধন।
এবে অস্ত্র না ধরিবে
প্রাণে কাউকে না মারিবে,
চিত্ত শুদ্ভি করিবে
সবার রে, চিত্ত
শুদ্ভি করিবে সবার।
কাউকে বাকী রাখবে
নারে,
সুমধুর হরি নাম
দিতে কাউকে বাকী রাখবে নারে।।
কথা
তাই পাগলা প্রভু নিতাই আমার সুমধুর
হরি নাম আর প্রেমভক্তি দিয়ে কলির জীবকে ঊদ্বার করবেন।
মাতান
স্থাবর জঙ্গল কীটপতঙ্গ
কাউকে বাকী রাখবে নারে,
সমধুর হরিনাম দিতে
কাউকে বাকী রাখবে নারে।।
ভজ পতিত ঊদ্ধারণ
শ্রীগৌউর হরি।
কথা
অদ্বৈত ঠাকুর মনে মনে সঙ্কল্প
করে প্রভুর সেবা দিবে বলে।তাই আজ অদ্বৈত ভক্তের দ্বারে গিয়ে গললগ্নি হয়ে কড়োজুড়ি নিমন্ত্রন
করছেন।
সুরে
শুন শুন ভক্তগন
করি নিবেদন।
আজি মহাপ্রভুর আমি
করাব ভোজন।।
তোমরা সবাই কৃপা
করো।
কথা
ভক্তগনকে নিমন্ত্রন করা শেষে অদ্বৈত
ঠাকুরের মনে পড়েছে আমিতো ভক্তদের নিমন্ত্রন করলাম কিন্তু আমার প্রাণের ঠাকুর গৌউর হরিকেই
তো নিমন্ত্রন করা হয়নি।তাই আজ অদ্বৈত ঠাকুর আমার গৌউর হরিকে নিমন্ত্রন করতে যাচ্ছেন........
সুরে
প্রেমে পুলকিত হৈয়া
অদ্বৈত চলিল ধাইয়া।
উপনিত হৈলা প্রভুর
স্থান।
প্রভু বলে অদ্বৈত
তুমি হেথা কেন আইলে।
আমি বৃন্দাবনে তুমি
কেমনে জানিলে।।
অদ্বৈত বলে যাহা
তুমি তাহা বৃন্দাবন।
মোর ভাগ্যে শান্তিপুরে
তব আগমন।।
প্রভু বলে নিত্যানন্দ
আমাকে ভন্ডিলে।
গঙ্গাতীরে আনিয়া
মোরে যমুনা কহিলে।।
অদ্বৈত বলে মিথ্যা
নহে শ্রীপাদ বচন।
শ্রী যমুনা স্নান
তুমি করিলে এখন।।
গঙ্গা যমুনা বহে
হৈয়া একাধার।
পশ্চিমে যমুনা বহে
পুর্বে গঙ্গাধার।।
পশ্চিমে যমুনা বহে
তাহে করলেন স্নান।
আদ্র কপিন ছাড়ো
করো শুষ্ক পরিধান।।
কথা
তাই অদৈত গৃহিনী সীতা শান্তিপুরের
নারী মনে মনে সংকল্প করছে মহাপ্রভুর সেবা দিবে বলে, নগরে নগরে গিয়ে ভিক্ষা করে কিঞ্চিত তন্ডুল
ও কড়ি সংগ্রহ করেছে। আজ হরিদাস কে ডেকে বলেছেন বাবা হরিদাস
তুমি যাও ঐ নবদ্বীপে মহাপ্রভুসহ সবাইকে নিমন্ত্রন করে নিয়ে এস, এই আমার অভিলাস তুমি যাও
বাবা হরিদাস অতি শিগ্র করে যাও তুমি ছাড়া যে আমার আর কেউ নেই সীতা ঠাকুরানীর নিকট হরিদাস
বললেন আমিতো নিমন্ত্রন কিভাবে করতে হয় তা জানি না, তখন সীতা ঠাকুরানী
হরিদাসকে বললেন তোমাকে নিমন্ত্রন করা জানতে হবে না, আমি নিজ হস্তে
একখানা পত্র লিখে দিচ্ছি তাতে সব লিখা থাকবে। তুমি মহাপ্রভুর করে দিলেই প্রভু সব বুঝে
নিবেন।
সুরে
এত বলি নিমন্তন্ন পত্র যে লিখিল।
পত্র লিখি হরিদাসের
করে সমাপিল।।
পত্র লয়ে হরিদাস
করিল গমণ
পথে যেতে ভাবে চিনতে
প্রভুরও চরণ।।
কথা
হরিদাস যেতে যেতে চিন্তা করছেন
আমি হঠাৎ নবদ্বীপে গিয়ে প্রভুর দরশন পাব কিনা, অবশ্যই পাবেন কেননা হরিদাস তো একমনে প্রভুর চরণ
চিন্তা করেছেন। প্রভু নিজেই বলেছেন যদি কোন ভক্ত জলে জঙ্গলে স্থলে যেখান থেকে একমনে আমাকে
ডাকক না কেন আমি তার ডাকে সাড়া দেই এবং তার মনের বাসনা পুরণ করি।
সুরে
তাই ভাবিতে চিন্তিতে
হরিদাস নবদ্বীপে গিয়ে, ধন্য হল মহাপ্রভুর চরণও দেখিয়ে।।
মাতান
ধন্য হল রে,
মহাপ্রভূর দরশন
পেয়ে ধন্য হল রে।।
কথা
তাই প্রভু হরিদাস কে দেখে জিজ্ঞাসা
করলেন কে হরিদাস, আমি এখানে আছি কেমন করে জানলে। হরি মহাপ্রভুর কথা শুনে নয়নের জলে বক্ষ
ভাসিয়ে বলছেন কেন প্রভু আপনিই তো বলেছেন যদি কেউ এক মনে আমার চরণ সেবা করে তাহলে তুমি
তার আশা বঞ্চিত কর না।
সুরে
ভূমে পড়ি করজুড়ি বন্দিল চরণ।
নিমন্তন্ন পত্রখানা
করিল অর্পন হরে হরে।।
পত্র পড়ি গৌউর হরি
জানলেন নিমন্তন্ন।
ভক্তগণ ডেকে এনে
কহিল বচন।।
কথা
আরে বার বাবা ভক্তগণ তোমাদের শান্তিপুরে
নিমন্ত্রন হয়েছে। ভক্তগণ
বললেন শুধু আমাদেরি নিমন্ত্রন হয়েছে তোমার হয়নি। প্রভু বললেন না না আমারো হয়েছে, আমিও তোমাদের সংগে যাব।
সুরে
তবে উঠি মহাপ্রভু
আনন্দিত মনও
ভক্তগণে সংগে লয়ে
করিলেন গমন।।
আগে আগে যান প্রভু
নাচিয়া নাচিয়া।
পিছে পিছে যায় ভক্ত
হরি ধবনি দিয়া।।
দুই ধারে দাঁড়িয়ে
দেখে যত নর নারী।
বেহ উলুধ্বনি দেয়
কেহ বলে হরি।।
মাতান
আনন্দ আর ধরে না, মহাপ্রভুর দরশন পেয়ে আনন্দ
আর ধরে না।।
কথা
এদিকে শান্তিপুরের সীতাদেবী নগরীগণকে
ডেকে ডেকে বলছেন, তোরা কী শুনতে পাচ্ছিস ঐ প্রভু আমার আসছে। তোরা সবাই পথের দিকে চেয়ে থাক এখনি প্রভু
আমার শান্তিপুরে এসে উপনীত হবেন।
সুরে
মধ্যান্ন কালেতে
আমার শ্রীসচীনন্দনও।
ভক্তসনে আসিলেন
অদৈত ভুবনে।।
অদৈত গৃহীনি আর
শান্তিপুরের নারী ।
ঊলু ঊলু দেয় সবে
গৌরা্ঙ্গ মুখেরী।।
শান্তিপুর হল আজি
শান্তিময় ধাম।
ভুমে পড়ি নর নারী
করিল প্রণাম।।
বসিতে আসন দিল রত্ন
সিংহাসন।
তাহাতে বসিলেন আমার
শ্রীসচীনন্দন।
দেখে প্রচন্ড তাপেতে
প্রভুর ঘেমেছে বদন।
ধিরে ধিরে সর্ব
অঙ্গ করালো বেজন।।
বেজন অন্তে মহাপ্রভুর
আত্মা সুস্থ হলে।
চরণ ধুয়ায় স্নান
করায় সুশীতল জলে।।
চরণ একবার ধুয়াই
একবার দেখে
কথা
চরণ একবার ধুয়ায় একবার দেখে, কী দেখছেন ওরা এ চরণ কি
সেই চরণ নয়, সত্যযুগে ছিলেন নারায়ণ, ত্রেতাযুগে
রাম, দ্বাপরেতে কৃষ্ণ আর এ কলিতে গৌউরাঙ্গ হয়ে এসেছ এই নবদ্বীপে। যুগে যুগে রূপ বদলীয়েছ কিন্তু চরণ তো বদলায়
নি।দেখ তোরা দেখ
ভাগ্যে আর হবে কিনা।
মাতান
ধ্বজ বজাঙ্কুশ চিহৃ
আছে কিনা, চরণ একবার ধুয়ায় একবার দেখে।
সুরে
নিতের অঞ্জলে প্রভুর
চরণো মুছালো।
ভেজা বসন ছেড়ে শুকনা
বসন পরাল।।
বিবিধ কুশুমের মালা
গলে পরাইল।
মনের আনন্দে তারা
মালা চন্দন দিল।
নিজের ঘরে গৌউর
পেয়ে মালা চন্দন দিল।।
কথা
মালা চন্দন দেবার
পর ভক্তগণ প্রভুকে দাঁড়িয়ে দাড়িয়ে দেখছেন আর আক্ষেপ করছেন।
সুরে
মালা কেন হলাম নারে, মালা হলে গৌউর গলে থাকতাম,
মালা কেন হলাম নারে।।
কথা
প্রভুকে করজুড়ে সীতা ঠাকুরানী
বলছেন প্রভু বেলা তো অনেক হল আর বিলম্ব না করে এবার চল প্রভু ভোজন মন্দিরে। বেলা যে বয়ে যায়।
সুরে
অতিকাল হল প্রভু
বিলম্ব না করো।
কৃপা করি চল এখন
ভোজন মন্দিরে হরে হরে।।
তবে উঠি মহাপ্রভূ
মন্দিরে চলিল।
ভক্তগণ সঙ্গে লয়ে
দাঁড়ায়ে রহিল।।
সবার দক্ষিণে প্রভূ
গুরুর আসন দিল।
সবার দক্ষিণে প্রভূ
গুরুকে বসাল।।
কথা
গুরুকে বসায়ে প্রভু ভক্তগণকে ডেকে
ডেকে বললেন ভক্তগণ এবার সবায় বস, কিন্তু ভক্তগণ প্রভুর মূখ পানে চেয়ে আছে দেখে প্রভু বুঝতে
পারলেন। প্রভুতো
আমার অন্তরযামী তাই প্রভূ বললেন ও বুঝেছি আমি না বসলে তোমরা বসবে না, তাহলে আমি আগে বসি তারপর
তোমারা বস।
সুরে
বামে প্রিয় গদাধর
দক্ষিণে নিতাই।
মধ্যে আসনে বসলেন চৈতন্য গোসাই।।
প্রভু বলে সীতানাথ
এস একত্রে বসিব।
সীতানাথ বলে প্রভু
না না আমি পরিবেশন করব।।
কথা
প্রভু অদৈত কে রহস্য করে এস সীতারনাথ
একত্রে বসি, কিন্তু সীতাকে বলেন নি প্রভু বলেছেন সীতার নাথ অর্থাৎ অদৈত আচার্যকে। আমাকে অনুমতি দাও গৌউর হরি আমি নিজ হস্তে
তোমার সেবার পরিবেশন করি।
সুরে
তথাপিও এক আসন প্রভুর
সঙ্গে দিল।
প্রভুর আজ্ঞা পেয়ে
সীতানাথ তাহাতে বসিল।।
কথা
এদিকে ভক্ত শ্রীবাস একটু আড়ালে
ছিলেন, তিনি
ভাবলেন সবাইতো বসে গেছেন প্রভুর মনে হয় আমার কথা মনে নাই, তাই
শ্রীবাস সামনে এগিয়ে আসলেন।
সুরে
সম্মুখে দাঁড়ায়ে
দেখে ভকত শ্রিীবাস।
তুমি এসে একত্রে
বসে পরাও অভিলাষ।।
গদাধরের বামে বসলেন
ভক্ত শ্রীবাস।
ভাবের মত বসেছে
আজ আনন্দে উল্লাস।।
মাতান
তারা ভাবের মত বসেছেরে
ভাবনিধিকে মাঝে
রেখে, ভাবের
মত বসেছেরে।
মহাপ্রভূ মাঝে রেখে, ভাবেরমত বসেছেরে।।
কথা সীতাঠাকুরানী নগরীগণকে ডেকে
ডেকে বলছে, দেখ দেখ নগরীগণ চাঁদের বাজার বসেছে।আরো কোন কোন জায়গায় বসেছে জানিস
যে জন কৃষ্ণ ভক্ত, যেজন হরি ভক্ত তার মন মন্দিরে বসে আলোকিত করে।তখন সে ভক্ত কি করে জানিস ধুলাই
পড়ে গড়া গড়া দেই আর বলে হে গৌউর এবার মোরে কৃপা কর প্রভু। এ দিকে ভাগ্যবতী সীতাদেবী আজ প্রভুর সেবার
তরে সায়ায়েছে নানা দ্রব্য প্রীতিভক্তি ভরে।
সুরে
দধিীচিড়া ভলমূল
আরো লুচিপুড়ি।
সাজায়েছে নানা দ্রব্য
প্রীতিভক্তি ভরে।।
ক্ষীর ছানা নাড়ু
মুড়কি বিবিধ প্রকার।
ভক্তিভাবে দিয়েছেন
সীতাথালারো ঊপর।।
শাকও শূকতা অন্ন
দিল সারি সারি।
ডাইল দিয়েছেন আরো
নাফরা তরকারী।।
মিস্টান্ন দিয়েছেন
কত কহিতে না পারি।
আরো কত দ্রব্য দিল
কহিতে না পারি।।
ভিঙ্গারে ভরিয়া
দিল সুবাসিত বারি্।
সবার সম্মুখে থালা
দিল সারি সারি।।
সেবার উপর তুলে
দিল তুলসী মঞ্জুরী।
কথা
একপাশে দাঁড়ায়ে মনে মনে ভাবছেন
প্রভু আমার সেবা নিচ্ছেন না কেন, কোথাও কোন ভুন ত্রুটি হল কিনা। হঠাৎ সীতাদেবীর মনে পড়েছে, ও নিবেদন তো করা হয়নি
তাই প্রভু সেবা নিচ্ছেন না। প্রভু হে তোমার সেবায় যে আমি নিবেদন করব
আমি তো কোন মন্ত্র তন্ত্র জানিনা তুমি আমায় বলে দাও প্রভু কী নাম দিয়ে তোমার সেবায়
নিবেদন করব।এবার প্রভু আমার সীতাদেবীর মুখের দিকে চেয়ে মিট মিট করে হাসছে।ঠিক তখনি সীতাদেবীর মনে পড়েছে, কেন প্রভুর নাম দিয়েই
আমি নিবেদন করব।
সুরে
বলি আমার মনে হয়েছে
প্রভু।
তোমার নামে দিয়ে
নিবেদিব।।
আমার মনে হয়েছে
প্রভু।
সীতাঠাকুরানী বললেন
তোমার নামেই তোমায় দিবেদন করব।
সুরে
গঙ্গাজল তুলসী দিয়ে
সীতা করলেন নিবেদনও।
আনন্দে ভোজন করে
শ্রীসচীনন্দন হরে হরে।।
ভক্তের দ্রব্য প্রভু
বড়ই ভাল বাসে।
যতই খান মহাপ্রভু
ততই পরিবেশে।।
দিওনা দিওনা প্রভু
বলে বারবার।
পারিবনা এত দ্রব্য
করিতে আহার।।
সীতা বলে নীলঅ ছলে
কাও বাহান্ন বার।
তাহার কাছে কিছু
নয় সচীর কুমার।।
কথা
নীলাচলে গিয়ে খেয়েছিলে বাহান্নবার
আর আমি তো তোমার সেবার যোগ্য নহে প্রভূ।নগরে নগরে গিয়ে ভিক্ষামাগী কিঞ্চিত সেবার
দ্রব্য জোগাড় করেছি, তাই তুমি খাচ্ছনা। তুমি তো ভিক্ষার দ্রব্যই তো ভালবাস। তাই নগরে নগরে গিয়ে ভিক্ষা করে তোমার সেবার
দ্রব্য এনেছি। খাও হে
কাঙ্গালের ঠাকুর। না জানি
হে পরিপাটী না জানি রনধন।সুখা রুখা একমুষ্ঠি করহো ভজন।
সুরে
খাও হে কাঙ্গালের
ঠাকুর।
েআমি ভিক্ষা করে
এনেছি গো, খাও হে কাঙ্গালের ঠাকুর গো।
তুমি নিজগুনে এসেছো
হে,খাও হে
কাঙ্গালের ঠাকুর গো।
আমি জানি হে পরিপাটী, খাও হে কাঙ্গালের ঠাকুর
গো।
কথা
মহাপ্রভু সীতাদেবীকে বলছে তুই
আর কাঁদিস না মা। তোর নয়নের
জলে আর ভক্তিতে আমার উদর পরিপূর্ন হয়েছে। আমি যে সব সইতে পারি কিন্তু ভক্তের নয়নের
জল সইতে পারিনা। দ্বাপর
যুগের কথা সীতাদেবীর মনে পড়েছে। সে যুগে তুমি রাখল বেশে যেতে গোষ্ঠে গোচারনে। তখন দূর্গা দেবী এসে তোমাকে গোপাল ডাকত, মা যশোদা ও তোমাকে গোপাল
ডাকত আর বলত।
সুরে
গোপাল আমার কোলে
আয় রে।
তোরে কোলে করে নাড়ু
খাওয়ায়,গোপাল
আমার কোলে আয় রে।
কথা
দূর্গাদেবী নিজ
করে নাড়ু, মুড়কি, ক্ষীর ছানা নবনী খাওয়াতেন আর বলতেন।
সুরে
গোপাল একবার আমায়
মা বল ডাক।
আমার তাপিত প্রাণ
শীতল করি,গোপাল
একবার আমায় মা বল ডাক।
কথা
একবার মা বলে ডাকনা গোপাল, তুই যদি আমায় মা বলে না
ডাকিস তাহলে ইহ জগতে আমায় আর কেউ মা বলে ডাকবে না। বারে বারে যতই দিচ্ছি ততই খাচ্ছিস আর আমার
দিকে তাকাচ্ছিস মা বলে ডাকবি না। গোপাল বলেছিল না তোমাকে এযুগে আমি তোমায়
মা বলে ডাকব না, সামনে কলিযুগে আগত তুমি হবে অদৈত গৃহিনী সীতা ঠাকুরানী আর আমি নবদ্বীপে জগ্ননাথ
মিশ্রের ঘরে শচীদেবীর গরভে জন্ম নিয়ে হব শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভূ। আর শান্তিপুরে গিয়ে তোমার হাতে আমি সেবা
নেব আর একবার নয় শত শত বার মা বলে ডাকব।
সুরে
একমুষ্ঠি অন্ন প্রভু
করেতে লইয়া।
খাও বলে তুলি দেয়
নিতাই এর মুখেতে।।
পাগলা প্রভু নিতাই
আমার খাইতে খাইতে।
এক মুষ্ঠি তুলি
দেয় গৌউরের মুখেতে।।
কথা
এমনি ভাবে প্রভুর আমার পূরবের
ভাব মনে পড়েছে আর একে অন্যের মুখে তুলে দিচ্ছেন আর নয়নের জলে ভেষে যাচ্ছে বক্ষ। এ সব দেখে সীতাদেবী বলছে একি হল প্রভু
তোমার নয়নে জল কেন? তোমার তো নামের অন্ত নেই ভাবের ও অন্ত নেই তোমার কোন ভাবের উদয় হল প্রভু। এবার আমার মনে
পড়েছে প্রভু, ত্রেতা যুগে তুমি ছিলে অযোধ্যায়
দশরথের পুত্র রাম। পিতৃসত্য পালিবারে প্রভূ গিয়েছিলেনবনে চৌদ্দ বছরের জন্য ক্ষুধা পেলে বন থেকে
অল পেড়ে আনতো ভাই লক্ষণ এনে প্রভুর হাতে দিতেন, প্রভু আমার তিন ভাগ করতেন এক ভাগ দিতেন
মা সীতাকে একভাগ নিজে খেতেন আর একভাগ ভাই লক্ষনকে দিয়ে বলতেন ধর ভাই লক্ষন,
খাও কখনো বলেননি।তাই প্রভুর আমার সেই ভাব মনে পড়ে প্রভুর
নয়নে জল এসেছে। প্রভু আমার
সেই কথা মনে করে নিতাই এর মুখে তুলে খাইয়ে দিচ্ছেন আর বলছেন.....
সুরে
ধর তোরে বলব নারে।
খাও বলে মুখে দিব, ধর তোরে বলব নারে।।
চৌদ্দ বৎসর অনাহারে
ছিলে, ধর তোরে
বলব নারে।।
কথা
এখন নিত্যানন্দ প্রভু বলেছেন একে
এখন আনন্দ দেওয়া দরকার, কেননা আনন্দ না দিলে গৌউর যদি মাটিতে পড়ে যায় তাহলে কি হবে উপায়, আমি মনে ভাবি তাই।নিতাই কিভাবে আনন্দ দিচ্ছে যানিস নগরী
গণ।
সুরে
আরও কত রঙ্গ করে
নিত্যানন্দ রায়।
উচ্ছিষ্ট ছুড়িয়া
মারে সীতানাতের গায়।।
উচ্ছিষ্টেরও পরশ
পেয়ে কী বলিব আর।
সীতানাতের অন্তরে
আনন্দ অপার।।
মহানন্দে সীতানাথ
ভক্তগণে বলে।
নিত্যানন্দের ফেলালব
বহু ভাগ্যে মিলে।।
শ্রীগুরু শ্রীনিত্যানন্দ
ভক্তের অবধি।
বেদ বিধি অগোচরে
ভাবে নিরবধি।।
সীতানাতের বাক্য
শুনি যত ভক্তগণ।
ঊলুর ধ্বনি হরির
ধ্বনি ভরিল ভূবন।
মাতান
আনন্দ আর ধরে না,
সীতানাতের অন্তরে
আনন্দ আর ধরে নারে।।
কথা
প্রভূ সীতাদেবীকে ডেকে ডেকে বলছেন
সেবা দেওয়ার তরে আনন্দে আত্মহারা হয়ে কী আবোল তাবোল বলছো সীতা। এই পাগলের সঙ্গ করনা, কেননা পাগলের সঙ্গ করলে
তোমার জাতি কূলরাখবে না।সবাই তোমাকে সমাজচ্যুত করবে। সীতা প্রভুকে বলেছিলেন তুমি যে কথা বলেছ
আর কখনো বলনা প্রভূ নিতাই এর সঙ্গ করে যদি আমার জাতিকুল না থাকলে আমি কি করব জান প্রভু
তবে বলছি শোন, কাপুড়ের চার মুড়া বেঁধে ভিক্ষার ঝুলি করে কাঁধে নিয়ে
সুরে
নিত্যানন্দ বুকে
ধরে নগরে বেড়াব।
জয় নিতাই জয় নিতাই
বলে ভিক্ষা মেগে খাব।।
তবু নিতাই ছাড়তে
পারব না গো।
ভক্তের দ্বারে দ্বারে
গিয়ে ভিক্ষা মেগে খাব, তবু নিতাই ছাড়তে পারব না গো।
কথা
আমি আর কি করব জান
প্রভু
সুরে
যে দেশে নিতাই এর
নাম নেই সে দেশে না যাব।
নিতাইও নবমুথী যারা
তার মূখ না হেরিব।।
কথা
যে দেশে নিতাই এর
নাম নেই সে দেশেতো যাবই না তাদের মুখও দেখব না।
মাতান
আমি নিতাই ভজলে
গৌউর পাব, তবু নিতাই ছাড়তে পারব না গো।
কথা
মা সীতা তুই রাগ
করিস না মা, রাগ করিস না আমি তোকে এতক্ষণ পরীক্ষা করলাম। তুই ঠিক বলেছিস মা নিতাই না ভজলে গৌউর
যাবে না। আমার নিতাই
যে ভালবাসে আমি তার কাছে বাঁধা থাকি তার প্রেম পাশে।
সুরে
মহাপ্রভুর ভোজন
বিলাস না যায়ও বর্ণন।
অনুরাগী ভক্তগণ
করে আস্বাদন।।
ভোজনের অবশেষ কহিতে
না পারি।
ভিঙ্গারে ভরিয়া
দিল আচমনের বারী।।
ভোজন সারিয়া সবে
করল আচমন।
সুর্বোনো খড়িকায়
করল দন্তের শোধন।।
আচমন সারিয়া প্রভু
বসলেন সিংহাসনে।
কর্পুরো তাম্বুল
যোগায় যত ভক্তগণে।।
ভক্তগণে সুখাসনে
প্রভুরে বসায়ে।
পুজিলেনো রাঙ্গা
চরণ পুষ্পচন্দন দিয়ে।।
আমি রাঙ্গা চরণ
পূজা করব
দুনয়নের বারি দিয়ে, রাঙ্গা চরণ পূজা করব।
আমার মন চন্দন তুলসী
দিয়ে, রাঙ্গা
চরণ পূজা করব
পূজা করতে হবে- এই বলে
ঔঁ কৃষ্ণায় গোবিন্দায়
নমঃ (৩বার)
সুরে
গোঘৃত কর্পূরে জ্বালাইয়া
বাতি।
গৌউর প্রিয় ভক্তগণে
করয়ে আরতি।।
তারা আরতি করে রে।
গৌউর প্রিয় ভক্তগণে, আরতি করে রে।।
তারা আরতি করে রে।
জলশংখ করে ধরে, আরতি করে রে।।
তারা আরতি করে রে।
আজ নিজের ঘরে গৌউর
পেয়ে, তারা
আরতি করে রে।
মনের আনন্দে তারা
আরতি করে রে।
তারা আরতি করে রে।
ঘুরে ঘুরে নেচে
নেচে আরতি করে রে।।
তারা আরতি করে রে।
আমার রতি মতি হবে
বলে, আরতি
করে রে।।
আমার ভক্তি মতি
হবে বলে, আরতি
করে রে।।
আরতির পরে প্রভুর
পালঙ্কে শয়ন।
গোবিন্দ দাস করে
চরণও সেবন।।
ফুলেরো চুয়াড়ি ঘর
ফুলেরো কেওয়াড়ি।
ফলের রত্ন সিংহাসন, চাদুয়া মশারী।।
ফুলের বিছানা প্রভুর
ফুলের বালিস।
তাহার মধ্যে মহাপ্রভু
করেন আলিশ।।
আহা বিন্দু বিন্দু
ঘাম দেখি মহাপ্রভুর গায়।
নাগরী আর নরহরি
চামর ও ঢুলায়।।
ফুলের রেনুকা প্রভুর
উড়ি পড়ে গায়।
তাহার মধ্যে প্রভু
আমার সুখে নিদ্রা যায়।।
মহাপ্রভুর ভোজন
বিলাস না যায় বর্ণন।
মহাপ্রসাদ দাও দাও
বলে যত ভক্ত গন।।
শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য
প্রভু দাসের অনুদাস।
সেবা অভিলাস মাগে
নরোত্তম দাস।।
রাধা গোবিন্দ মাধব
গিরি ধারী।
ভজ গিরি ধারী গোব্ধনও
ধারী।।
আহা কেলী কলারস
মনহারী।
রাধা গোবিন্দ মাধব
গিরি ধারী।।
শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দের ভোজন আরতি
ভজ রাধা গোবিন্দ
মাধব গিরিধানী, গিরিধারী গোর্বধনও ধারী,
কলি কলারস মনহারী।
মধ্যাহ্ন কালেতে
রায় সূর্য্য পূজার ছলে,
আইলেন রাধাকুন্ড
তীরে মহা কৌতুহলে।
সখীগণ সঙ্গে আসি
কৃষ্ণ সঙ্গে মিলিয়া,
রাধাকুন্ডে কত রঙ্গে
জলকেলী কৈলা।
কেলী সমাপিয়া সবেকুন্ড
তীরে উঠি,
বেশ ভূষা করিলেন
মহাপরিপাটি।
রাধা কুন্ডতীরে
রাধাকৃষ্ণকে পাইয়া,
যুগল সেবা বিবার
লাগি উঠিল মাতিয়া।
বৃন্দাদেবী বলে
বধু করো আরাধন,
ভোজন কুঞ্জ মাঝে
করহ প্রয়ান।
এতশুনি নাগর কুঞ্জ
মাঝে গেল,
সখিগণ সবাই মিলে
উলুধ্বনি দিল।
বসিতে আসন দিল ফুলের
সিংহাসন,
রাধাকুন্ডের জলে
কৈলা পদ প্রক্ষালন।
বসন অঞ্চল পাতি
দিল আসন পরি,
আচমন করিতে দিল
রাধাকুন্ডের বারী।
আচমন করিয়া নাগর
বসিলা সিংহাসনে,
চামর ব্যজন করে
যত সখি গণে।
সম্মুখে শল্যান্ন
আর বিবিধ ব্যঞ্জন,
যাহাতে পরম তুষ্ট
শ্রীনন্দের নন্দন।
শাক ও শুকতা অণ্ণ
দিয়া সারি সারি,
দধি দুগ্ধ ছানা
মাখন আরও লুচি পুরী।
ভোগের যত দ্রব্য
আর ঘৃত মধু শিখরনী,
ভিঙ্গারে পুরিয়া
দিল সুবাসিত বারি।
ভোগের উপর তুলে
দিল তুলসী মঞ্জুরী।।
শ্রীকৃষ্ণায় নমঃবলি
কইল নিবেদন,
এইবার ভোজনে বসলেন
বিপীন বিহারী।
বৃন্দাদেবী বলে
বধু কিছুনা রাখিবা,
সুখা রুখা যাহা
আছে সকলি খাইবা।
নাহি জানি পরিপাটী
না জানি রন্ধন,
ভালবাসি সবই বধু
করিবা ভোজন।
বৃন্দাদেবী সবদ্রব্য
পরিবেশন শেষে,
ভোজন করিয়া নাগর
স্বাদ ও প্রসংশে।
হাসি হাসি মুখে
নাগর ভোজন করিল,
তাহা দেখি সব নাগরী
আনন্দে ভাসিল।
ভোজন হইলে শেষ এক
ব্রজ নারী,
পান করিতে দিল সুবাসিত
বারী।
বারী পান করিয়া
নাগর করিলা আচমন,
কর্পুরও তাম্বুল
জোগায় যত সখী গণ।
তাম্বুল খাইয়া নাগর
করিল শয়ন,
এইবার রায়ধ্বনি
বসিলেন ভোজন।
কৃষ্ণভক্ত শেষ পাত্রে
আপনি বসিয়া,
সখিসনে কৃষ্ণকথায়
প্রসাদও পাইলা।
আচমন করিয়া ধ্বনি
বসিলা আসনে,
কর্পুরও তাম্বুল
জোগায় যত সখি গণ।
ফুলের চুয়ারী ঘর
ফুলের কেওয়ারী,
ফুলের রত্ন সিংহাসন
চাদুয়া মশারী।
ফুলের বিছানা আর
ফুলের বালিস,
তাহার মধ্যে রাধাকৃষ্ণ রাখিলেন আলিস।
ফুলো মন্দিরে দোহে
করিলা শয়ন,
পদ সেবন করে নম্র
সখীগণ।
করিতে লাগিলা শ্রীচরণও
সেবন,
সুখে নিদ্রা যায়
দোহে যুগলও রতন।
যুগল হেরি সব সখি
আনন্দে বিভোর,
প্রেমেতে মাতিলা
সবে সুখের ও উপর।
ফুলের পাপড়ী যত
উড়ি পড়ে গায়,
তাঁহার মাঝে রাধামাধব
সুখে নিদ্রা যায়।
অবশিষ্ট প্রসাদ
লয়ে সব সখিগণ,
প্রেমানন্দে সবে
মিলে করিল ভোজন।
প্রসাদ পাইয়া সবে
কুঞ্জ মাঝে যায়,
বেলা অন্ত যায় দেখি
যুহলও জাগায়।
শ্যমের বামে বসাইল
রাধিকা সুন্দরী,
পশু পাখি উপনিত
দুহো রূপও হেরি।
ধপিদ্বীপ আর কর্পূর
বারী,
আরতি করোতহে ললিতা
পিয়ারী।
রাধাকুন্ড তীরে
আজি যুগলও নিহারী,
উলু উলু জয় দেয়
যত ব্রজ নারী।
নিতুই নিতুই এছনো
যুগলও বিলাস,
সেবা অভিলাস মাগে
দীন কৃষ্ণদাস।
রাধাগোবিন্দের চরণ
সেবা পেতে অভিলাস,
আসায় আসায় বসে রইল
পদধুলি দাস।
--------------------
নরত্তোম ঠাকুরের পাঁচালী
হরি হরায়ে নমঃ কৃষ্ণ যাদবায় নমঃ।
যাদবায় মাদবায় কেশবায় নমঃ।।
গোপাল গোবিন্দ রাম শ্রীমধুসুদন।
গিরিধারী গোপীনাত মদনও মহন।।
শ্রীচৈতন্য নিত্যানন্দ
শ্রীদৈত্য সীতা।
হরিগুরু বৈষ্ণব ভাগবত গীতা।।
শ্রীরূপ সনাতন ভট্ট্র রঘুনাথ।
শ্রীজীবি গোপাল ভট্ট্র দাস রঘুনাথ।।
এছয় গোসাইয়ের করি চরণও বন্দন।
যাহা হতে বিঘ্ননাশ অভিষ্টপূরণ।।
এ ছয় গোসাই যবে মোরে করে দয়া।
চরণে স্মরণ নিলাম দাও গহ পদ ছায়া।।
মনের আনন্দে বল হরি ভজ বৃন্দাবন।
মধুর মধুর বাশিঁ বাজে এই তো বৃন্দাবন।।
মনের আনন্দে বল হরি ভজ বৃন্দাবন।
ললিতা বিশাখা আদি যত সখিগণ।।
মনের আনন্দে বল হরি ভজ বৃন্দাবন।
শ্রীদাম সুদাম আদী যত সখা গণ।।
মনের আনন্দে বল হরি ভজ বৃন্দাবন।
তমাল তমালী আদি যতবৃক্ষগণ।।
মনের আনন্দে বল হরি ভজ বৃন্দাবন।
ময়ুরা ময়ুরী আদি যত পাখিগণ।।
মনের আনন্দে বল হরি ভজ বৃন্দাবন।
শ্যামলী ধবলী আদি যত গাভীগণ।।
মনের আনন্দে বল হরি ভজ বৃন্দাবন।
শ্যাম কুন্ড রাধাকুন্ড গীরি গোবর্ধন।।
কৃষ্ণনাম কর ভাই আর সব মিছে।
রাধা গোবিন্দের নাম কর ভাই আর সব মিছে।
নিতাই গৌউর ভজ ভাই আর সব মিছে।।
পলাইতে পথ নাই ভাই যম আছে পিছে।
মনের আনন্দে বল হরি ভজ বৃন্দাবন।
শ্রীগুরু বৈষ্ণব পদে মজাইয়া মন।।
বৈষ্ণব ঠাকুর আমার
করুনার সিন্ধু
ইহকালের প্রেমদাতা পরকালের বন্ধু।
ঠাকুরের ঠাকুর আমার বৈষ্ণব গোসাই।
কলিভব তরাইতে আর কেহ নাই।।
এবার করুনা কর বৈষ্ণব গোসাই
ধন্য কলি যুগের মাঝে আর কেহ নাই।
মনের আনন্দে বল হরি ভজ বৃন্দাবন।
শ্রীগুরু বৈষ্ণব পদে মজাইয়া মন।
শ্রী পরিমল চন্দ্র
সহকারী শিক্ষক (হিন্দু ধর্ম)
0 মন্তব্যসমূহ